
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থী ও নগর নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নগরবাসীর প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এরই মধ্যে আলোচনায় আসছে সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুলের নাম।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার পাশাপাশি শিক্ষা ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর কর্মকাণ্ড। ফলে সিলেট নগরীর নেতৃত্বে তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হলে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ড. নুরুল ইসলাম বাবুলের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের একটি আলোচিত ঘটনা। ওইদিন সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় তৎকালীন মহানগর শিবিরের সভাপতি ড. বাবুল গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে যাচ্ছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের দাবি।
দক্ষিণ সুরমায় তাঁর পারিবারিক বাড়ি হলেও বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীতে বসবাস করছেন। নগরবাসীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তাঁর অনুসারীরা।
বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শিক্ষা ও ব্যবসায়িক অঙ্গনেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। দক্ষিণ সুরমার স্টার লাইট একাডেমি, স্টার লাইট কলেজ, বিজলিংক গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি জড়িত বলে জানা গেছে। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
সিলেট নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন—এসব বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতাসম্পন্ন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।
এমন বাস্তবতায় একজন শিক্ষাবিদ ও সংগঠকের অভিজ্ঞতা নগর পরিচালনায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ড. বাবুলের সমর্থকদের মতে, শিক্ষা, সংগঠন ও ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা নগর পরিচালনায় কাজে লাগতে পারে।
তবে শুধু ব্যক্তিগত যোগ্যতা নয়, সিটি কর্পোরেশন পরিচালনায় প্রশাসনিক দক্ষতা, নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে জ্ঞান, নাগরিকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং দল-মত নির্বিশেষে সবার আস্থা অর্জনের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ড. বাবুলের নাম সামনে এলে এসব বিষয় নিয়েও নগরবাসীর মধ্যে মূল্যায়ন ও আলোচনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেষ পর্যন্ত সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাকে প্রার্থী করবে, সেটি সম্পূর্ণভাবে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। কোনো ব্যক্তির নাম আলোচনায় থাকা মানেই দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত—এমনটি বলার সুযোগ নেই।
তবে স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, নগর রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। সেই জায়গা থেকে ড. নুরুল ইসলাম বাবুলের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
সিলেট নগরীর নেতৃত্বে একজন মেধাবী, অভিজ্ঞ ও শিক্ষাবিদকে নগরবাসী কতটা গ্রহণ করবে—সেটিও নির্ভর করবে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, কর্মপরিকল্পনা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর।
সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়—সিলেট নগরীর নেতৃত্বে কি নতুন ধরনের শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব চান নগরবাসী? এর উত্তর দেবে সময়, আর শেষ কথা বলবে ভোটারদের রায়।
Leave a Reply