
সিলেটে ইউকে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা দেওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পিবিআইয়ের তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ মামলায় আদালতের দেওয়া আপোষের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে সিলেট নগরীর কাজীটুলাস্থ এস এস মার্কেটে আমান এসোসিয়েটস এর সিইও আসামি মো. বদরুজ্জামান তানভীরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ফারহানা সুলতানা এ আদেশ দেন। একই মামলায় অন্য আসামিদের আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মামলাটির তদন্ত শেষে পিবিআই, সিলেটের তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে ১ নম্বর আসামি মো. বদরুজ্জামান তানভীর এবং ২ নম্বর আসামি মৌরিন তাসফিয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬/৩৪/ ৩১ ধারায় এবং অন্যান্য আসামি মো: আলী আহমদ, ইমরান হাসান প্রকাশ মো: ইমরানইমরান হাসান, মো: আব্দুল বারিক বাবলু, শেখ শফিকুর রহমান তালুকদার, মুহাম্মদ আশিকুর রহমান আসামিদের বিরুদ্ধে ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদী মাছুম আহমদের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা দেওয়ার কথা বলে মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ ৪৩ হাজার ৩০৮ টাকা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী আরও ১ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার ৩০৮ টাকা পাওনা রয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতির বিপরীতে নেওয়া ওই অর্থের একটি বড় অংশ ফেরত না দেওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার শুনানির পূর্ববর্তী পর্যায়ে আসামিরা আপোষের শর্তে এবং নির্দিষ্ট বন্ডে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে পরবর্তীতে আদালতের শর্ত অনুযায়ী বাদীপক্ষের সঙ্গে আপোষ বা সমঝোতা সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
বুধবার মামলার ধার্য তারিখে আপোষের শর্ত পূরণ না হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। শুনানি শেষে আদালত ১ নম্বর আসামি মো. বদরুজ্জামান তানভীরের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
Leave a Reply