
দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি’র গবেষণা সংগঠন ‘মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটি (MURS)’-এর প্রতিষ্ঠার প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেটে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মধ্যেই গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাডেমিক সম্পৃক্ততা, দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মশালা এবং জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে MURS যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে, প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন ছিল সেই গৌরবময় পথচলারই উদযাপন।
গত এক বছরে MURS-এর সফল পথচলা ও উল্লেখযোগ্য গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত একটি চিত্রপ্রদর্শনীর (উপস্থাপনা) মাধ্যমে বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উপস্থাপনা করেন MURS এক্সিকিউটিভ সদস্য রাতুল চক্রবর্তী ও শহিদুর রহমান শাকিব । তাঁরা MURS-এর প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্তি, এই সময়ের অর্জন এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন। তাঁরা অফলাইন ও অনলাইন গবেষণা কর্মশালা, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন একাডেমিক উদ্যোগ এবং ‘National Interdisciplinary Conference on Sustainable Development Goals 2026 (NICSDG-2026)’-এর মতো জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, MURS কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মধ্যেই সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম ২০টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, জার্নাল এবং বিভিন্ন প্রকাশনায় স্থান করে নিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই একটি জাতীয় গবেষণা সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করা MURS-এর জন্য এক অনন্য অর্জন, যা সংগঠনের সক্ষমতা ও দলগত প্রচেষ্টার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এরপর সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সিফাত ইকবাল, জেনারেল সেক্রেটারি শাহরিয়ার আলম মেহেদী তাপাদার এবং কোষাধক্ষ্য মো.তারেক মিয়া তাঁদের বক্তব্যে MURS-এর প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত পথচলার নানা স্মৃতি, চ্যালেঞ্জ, সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তাঁরা বলেন, সীমিত সম্পদ, অসীম স্বপ্ন এবং সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রমই MURS-কে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে গবেষণাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নতুন গবেষকদের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ MURS-এর এক বছরের কার্যক্রম, নেতৃত্ব এবং গবেষণার প্রতি সদস্যদের নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা গবেষণার গুরুত্ব, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে MURS-এর আরও বৃহত্তর সাফল্যের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মূল্যবান ও উদ্দীপনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ ইশরাত ইবনে ইসমাইল।
তিনি বলেন, ‘গবেষণাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রাণ। তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণামুখী মনোভাবই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। MURS মাত্র এক বছরে যেভাবে এই পরিবেশ তৈরি করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’
এছাড়াও অনুষ্ঠানের বক্তব্য প্রদান করেন রেজিস্ট্রার খন্দকার মকসুদ আহমেদ, প্রফেসর চৌধুরী এম. মোকাম্মেল ওয়াহিদ (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ), অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাডভাইজার মো. আলাউল হক, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর শেখ আশরাফুর রহমান, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও আইন ও বিচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. এম. জেড. আশরাফুল, MURS-এর উপদেষ্টা মো. জিয়াউর রহমান, ও আমজাদ হোসেন।
এছাড়াও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (SUST) এবং সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের রিসার্চ সোসাইটির প্রতিনিধিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দঘন আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে MURS-এর বিভিন্ন কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখা সদস্যদের মাঝে সম্মাননা, পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠার প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেক কাটার মধ্য দিয়ে উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। আনন্দ, গর্ব এবং ভবিষ্যতের নতুন প্রত্যাশায় দিনটি সকল সদস্য, শিক্ষক ও অতিথিদের জন্য এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকে।
অধিকিন্তু, অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন সন্দীপন ভট্টাচার্য্য এবং রুপন্তী চক্রবর্ত্তী রিচি। তাঁদের প্রাণবন্ত, সাবলীল ও অনুপ্রেরণাদায়ী উপস্থাপনা পুরো আয়োজনকে এক অনন্য মাত্রা দান করে।
উল্লেখ্য, MURS-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠার এই এক বছর ছিল শুধু একটি সংগঠনের পথচলা নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার এক নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা। অল্প সময়ের মধ্যেই যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তা সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের আন্তরিকতা, পরিশ্রম এবং দলগত চেতনারই প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, এই সাফল্যের নেপথ্যে অসামান্য অবদান ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইমেরিটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর রহমান চৌধুরী। তাঁদের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়েই সংগঠনটি তাদের সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ ইশরাত ইবনে ইসমাইল, ট্রেজারার প্রফেসর মো. তাহের বিল্লাল খলিফা, পিএইচডি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সৈয়দ নাকিব সাদী, MURS-এর উপদেষ্টা অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মো. জিয়াউর রহমান, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মো. আমজাদ হোসেন, সিনিয়র লেকচারার মো. শাদমান শাকিব, এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা তত্ত্বাবধায়কগণের একনিষ্ঠ পরিচর্যা ও একাডেমিক পরামর্শ MURS-এর এই এক বছরের পথচলাকে অর্থবহ ও সফল করে তুলেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, MURS-এর সকল নির্বাহী সদস্য, সাধারণ সদস্য, বিভিন্ন কমিটির সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম, সাংগঠনিক দক্ষতা ও গবেষণার প্রতি অঙ্গীকারের ফলেই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরেই জাতীয় পর্যায়ে একটি সুপরিচিত গবেষণা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে।
সর্বোপরি, MURS-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল একটি উদযাপন নয়; এটি ছিল এক বছরের অর্জন, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, গবেষণার প্রতি অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যতের আরও বৃহত্তর স্বপ্নের এক অনুপ্রেরণাদায়ক প্রতিফলন। এই পথচলা আগামী দিনে দেশের গবেষণাক্ষেত্রে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন এবং তরুণ গবেষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply