
সিলেট নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানাধীন সিটি কর্পোরেশনের ১০নং ওয়ার্ডের কলাপাড়া ডহর এলাকার সমাজ কল্যাণ-৪৫ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় চুরির ৪ দিন পার হলেও অপরাধীদের শনাক্ত করতে বা খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মো. দুলাল হোসেন দৈনিক সিলেট বাণী পত্রিকার সিনিয়র ফটোসাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন দুলাল হোসেন। সকালে তাঁর স্ত্রী শাহিদা বেগম ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান বাসার জানালার গ্রিলের একটি অংশ খোলা। ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে তারা দেখতে পান, পেশাগত কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা নাইকন ডি-৬০ সহ ক্যামেরার ব্যাগ, দুটি স্মার্ট ফোন ও নগদ সাড়ে ১০ হাজার টাকাসহ লক্ষ টাকার মালামাল চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই পরিবারের সাথে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। তবে চুরির চারদিন অতিবাহিত হলেও খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার বা ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক দুলাল হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা রেখে থানায় অভিযোগ দাখিল করেছি। কিন্তু ৪ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করে মালামাল উদ্ধার এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তিনি।
এদিকে চুরির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল দুলাল হোসেনের বাসা পরিদর্শনে যান সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, সাধারণ সম্পাদক মো: সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, সাধারণ সম্পাদক আশকার ইবনে আমিন লস্কর রাব্বি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেজা রুবেল, ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
নেতৃবৃন্দ দুলাল হোসেনের বাসায় অনাকাঙ্খিত এই চুরির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার পূর্বক মালামাল উদ্ধার ও এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
Leave a Reply