
সিলেট শাহী ঈদগাহ যার প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে সিলেটের শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আভিজাত্য। আজ সেই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে বাণিজ্য মেলার প্রথম রাতেই ফুটল রঙিন ফটকাবাজি। আলোর ঝলকানি আর কানফাটা আওয়াজে প্রকম্পিত হলো চারপাশ।
কিন্তু একবার কি আমরা থমকে দাঁড়িয়েছি ওপারে তাকানোর জন্য?
ঠিক কয়েক গজের দূরত্বে, সিলেটের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন। সেখানে ধুঁকছে শত শত অসহায় প্রাণ। যেখানে একটি তীব্র আওয়াজ কিংবা হঠাৎ আতঙ্ক একজন হৃদরোগীর বেঁচে থাকার সবটুকু আশা এক নিমেষে নিভিয়ে দিতে পারে। যেখানে প্রতিটি সেকেন্ড কাটে এক ফোঁটা শান্তির প্রত্যাশায়, চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে—সেখানে মেলা কমিটির এই উদাসীনতা ও অসংবেদনশীলতা হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।
একদিকে তালি আর উল্লাস, অন্যদিকে আইসিইউর মনিটরে ওঠানামা করা শঙ্কিত জীবনের স্পন্দন। একপাশে চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা, অন্যপাশে প্রিয়জনের একটু সুস্থতার জন্য করিডোরে বসে স্বজনদের অশ্রুসিক্ত অপেক্ষা।
উৎসবের আলো কি এতটাই অন্ধ করে দিল আমাদের বিবেককে যে, মুমূর্ষু মানুষের তীব্র যন্ত্রণার আওয়াজটুকুই কারো কানে পৌঁছাল না? আজ কি আমাদের মানবিকতাও বিলীন হয়ে গেছে এই মেলা আর কোলাহলের আড়ালে?
মেলা হোক, কিন্তু তা যেন কোনো হারানো প্রাণের কারণ না হয়। বিনোদন হোক, কিন্তু তা যেন কারো শেষ নিঃশ্বাসের করুণ সুর না হয়ে দাঁড়ায়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন রইল—উৎসবের জাঁকজমক কি আমাদের বিন্দুমাত্র সহমর্মিতার চেয়েও বড় হয়ে গেল–?
Leave a Reply