পর্ব - ২
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন কমিটি এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাযথ তদন্ত কমিটির তদন্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতে সায়েককে স্থায়ী বহিষ্কার করেছিল। সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হতেই ২০২৬ সালে তিনি আবার ক্লাবে আসতে শুরু করেন। তাকে ক্লাবে আসতে সহযোগিতা করেন সাইফুদ্দিন খালেদ ও বিজিত চৌধুরীসহ অন্যান্য ডেভিলরা। ২০২৬ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন সভাপতি ও সহ সভাপতি ক্লাবের ভেতরকার অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন৷ এরপর থেকেই ক্লাবে আসা শুরু করেন আজীবন বহিষ্কৃত ডেভিল জাহিদ খান সায়েক। এরপর ১ জুলাই অবৈধভাবে ক্লাবের ক্ষমতা দখল করেন ডেভিল শাহরুখ আহমদ শাক্কু। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেভিল সায়েক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ অন্যরা। ৭ জুলাই ওই অবৈধ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সভায় জাহিদ খান সায়েককে ২ জুলাই থেকে ক্লাব ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এখানে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ৭ জুলাই মিটিং করে এর ৫ দিন আগে ২ জুলাই থেকে কিভাবে ক্লাবে আসার অনুমতি দেওয়া হলো স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া ডেভিল সায়েককে?
ক্লাবের বিধি অনুযায়ী, কোনো সদস্যকে বহিষ্কার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে, এর প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হলে ক্লাবের পরবর্তী এজিএম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ওই এজিএমে প্রস্তাবনা পাস হলে অভিযুক্ত সদস্যর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ বা ক্ষমার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত জাহিদ খান সায়েককে ক্লাবে ফিরিয়ে এনেছেন শাহরুখ আহমদ শাক্কুসহ অবৈধ কমিটির নেতারা।
জনমনে প্রশ্ন, এই অনিয়মতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত কলকাঠি কারা নেড়েছেন?
ডেভিল সায়েকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের সাথে তিনি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছেন। বহিষ্কারও হয়েছেন বারবার। গায়ের জোরেই ফিরে এসেছেন। সাবেক এক পরিচালক কামাল হাসানের স্ত্রীর ছবি তুলে কামালের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে স্থায়ীভাবে ক্লাব থেকে বহিষ্কৃতও হন। টানা প্রায় ২৬ থেকে ২৮ মাস আসতে পারেননি ক্লাবে
৫ আগস্ট তাঁর জীবনে শাপে বর হয়ে আসে। আগে আওয়ামী লীগের ছায়াই যথেষ্ট ছিল। এখন বিএনপির একাংশ নেতার আশীর্বাদে বহাল তবিয়তে আছেন। প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের ছায়াসঙ্গী হিসেবে সিলেট জেলা পরিষদের গাড়ি ও অফিসকক্ষ ব্যবহারের অভিযোগও সায়েকের বিরুদ্ধে আছে। আবুল কাহের শামীম সব জেনেও নীরব কি না— প্রশ্নটা এখন ক্লাবের বারান্দায় ছাড়িয়ে নগরের সবার মুখেমুখে।
সম্প্রতি গোপন সূত্রে জানা গেছে, ভাইরাল ভিডিও যিনি ধারণ করেছেন— তাঁকে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তিন মাসের জন্য বহিষ্কার করেছে। ভিডিওর অপর ব্যক্তিকেও বহিষ্কারের কথা রয়েছে। অথচ ঘটনার মূল অপরাধী জাহিদ খান সায়েক তেমন কোনো গুরুতর শাস্তি পাননি। তাকে মাত্র ১৫ দিনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
তাই সাধারণ সদস্যরা ক্ষোভ লুকোচ্ছেন না। তাঁদের কথা, এক ফ্যাসিস্টের দোসরকে আস্কারা দিয়ে ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ন্যায়বিচার হয়নি। আগের কমিটি যেখানে ডেভিল সায়েককে আজীবন বহিষ্কার করে এই বিচার শেষ করেছিল, পুনরায় ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে পুরোনো ভিডিও ১ বছর পর ভাইরাল করে নির্দোষ ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে। আর মূল অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্টোচিত্র উঠে এসেছে। তবে আমাদের অনুসন্ধানে ক্লাবের সাধারণ সদস্য ও নির্ভরযোগ্য সূত্র যা বলেছেন, প্রভাব খাটিয়ে ও অর্থের বিনিময়ে ঘটনা উল্টে দেখানো হয়েছে। যাতে মাতলামি করা অপরাধী ডেভিল সায়েক বেঁচে যান, আর যিনি মুঠোফোন ভিডিও তুলেছিলেন তিনিই দোষী সাব্যস্ত হন।
বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সদস্য। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে এই কমিটির আর অস্তিত্ব থাকে না। গত মার্চ মাসে তাঁরা পদত্যাগ করেছেন। কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার কথা। হয়নি। গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্লাব দখল করে বসে আছেন শাহরুখ আহমদ শাক্কুসহ অন্য ডেভিলরা। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান আছে।
এদিকে, বন্দরবাজারের মতো ঐতিহাসিক জায়গায় এই নোংরামি মেনে নিতে পারছেন না সিলেটের সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের কথা সোজা। বন্দরবাজারে জেলা প্রশাসক, আদালত, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, সাব-রেজিস্ট্রার, কোতোয়ালি, সার্কিট হাউস—এবং কয়েকটি জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা। এমন এক ভূখণ্ডে স্টেশন ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনা সিলেটের ঐতিহ্যের বিপরীত। তাওহিদি জনতাসহ একাংশ নাগরিক অনতিবিলম্বে এই আসর বন্ধের দাবি তুলেছেন। এভাবে চলতে থাকলে এই ক্লাবে মারামারি খুন খারাবি পর্যন্ত হতে পারে। তাই, এই অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্লাব সদস্যরা।
বর্তমানে ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই ফ্যাসিস্ট ও ডেভিলদের হাতে। এই কালো ছায়া থেকে মুক্তি চান ক্লাবের সদস্যরা। ডেভিলদের ভয়ে ক্লাবে কর্মরত স্টাফরা পর্যন্ত ভয়ে টু শব্দ করতে পারে না।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই শতবর্ষী ক্লাবের চাবি আজ কার হাতে। আর যারা এই প্রশ্ন তুলেছেন, সেই ক্লাব সদস্যদের একে একে বের করে দেওয়া হচ্ছে ক্লাব থেকে। এই শাস্তি কি ক্লাবের নিয়ম, নাকি ডেভিলদের নিরাপত্তা দেওয়ার একটি কৌশল, তা জানতে চান সাধারণ সদস্যরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রুবেল আহমদ
আইন উপদেষ্টা : এড: আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল পিপি, জজ কোট - সিলেট, এড: মামুন আহমদ রিপন, এডিশনাল পিপি, জজ কোট, সিলেট।
বার্তা সম্পাদক : মুশফাকুর রহমান।
অফিস : কাকলি শপিং সেন্টার, (লিফট-৬) জিন্দাবাজার সিলেট।
যোগাযোগ : 01716-220310
ইমেইল - hridoyesylhetnews@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত